গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে অন্তত চার জন নিহত
Image

গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে অন্তত চার জন নিহত

প্রকাশিতঃ ১৭ জুলাই ২০২৫, বৃহঃ, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ২৬২ বার।

গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে অন্তত চার জন নিহত

এদিকে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার (১৬জুলাই) জেলা শহরে পুলিশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে, ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেকে চিকিৎসা নিলেও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।

গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, “সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জানান, এখন পর্যন্ত চার জনের মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”

এর আগে, এনসিপির সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সড়ক অবরোধ করে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়তে দেখা গেছে।

এ সময় নেতাকর্মীদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে এনসিপি নেতাদের নিয়ে পিছু হটতে দেখা গেছে।
‘কেউ ঘর থেকে বের হবেন না’, গোপালগঞ্জবাসীকে আসিফ মাহমুদ
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “জীবন-মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি না হলে সাধারণ জনগণ কেউ ঘর থেকে বের হবেন না।” এর আগে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশস্থলে হামলার গঠনায় সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকা ‘রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়। এমন থমথমে পরিস্থিতিতে প্রথমে ১৪৪ ধারা ও পরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লিখেন, “গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি না হলে সাধারণ জনগণ কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের ভেঙে দেওয়া হবে।”

আসিফ মাহমুদ আরো লিখেন, “পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্র, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা।”

প্রসঙ্গত, চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ছিল দলটির।

এর আগে, বেলা পৌনে ২টার দিকে ২০০-৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এনসিপির সমাবেশস্থলে যায়। সে সময় মঞ্চের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দ্রুত আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন। একই সময়ে মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীরাও দৌড়ে সরে যান। যারা হামলা চালান, তারা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে জানান এনসিপির নেতাকর্মীরা।

ওই সময় হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। এনসিপির নেতাকর্মী ও পুলিশ এক হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে এনসিপি সেখানে সমাবেশ শুরু করে। কিন্তু সমাবেশ শেষে আবারও হামলা চালায় হামলাকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এদিকে পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, আজ গোপালগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণদের বিপ্লবী আন্দোলনের এক বছরপূর্তি উপলক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার হরণ করা হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগজনক এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। এনসিপি নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন; তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় অনেককে মারধর করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই নিন্দনীয় হামলা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় দায়ীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোরভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের ওপর এমন বর্বর সহিংসতার কোনো জায়গা থাকতে পারে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্যেও যারা সাহসিকতা ও অটল মনোভাব নিয়ে পদযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন, সেই শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এই বর্বরতার সঙ্গে জড়িতদের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

ঈদে ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ ২১ মার্চ ২০২৬, শনি, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

চাঁদ দেখা যায়নি, বাংলাদেশে ঈদ শনিবার

প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্র, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

জামায়াত আমিরের ঈদ শুভেচ্ছা

প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্র, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশিতঃ ১৪ মার্চ ২০২৬, শনি, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সংস্কার না হলে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে না বিরোধী...

প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬, বুধ, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

আরেকটি নজির তৈরি করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬, বুধ, ৯:২৭ অপরাহ্ণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বিপাকে জামায়াত

প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬, বুধ, ৯:২৫ অপরাহ্ণ