মে দিবসেও চলছে শিশুশ্রম, পেটের দায়ে ফিকে অধিকার
Image

মে দিবসেও চলছে শিশুশ্রম, পেটের দায়ে ফিকে অধিকার

প্রকাশিতঃ ১ মে ২০২৬, শুক্র, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ২১ বার।

মে দিবসেও চলছে শিশুশ্রম, পেটের দায়ে ফিকে অধিকার

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক কর্মপরিবেশের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে কয়েকজন শিশু দিনভর কাজ করেছে জীবিকার তাগিদে। তাদের কাছে মে দিবস অন্য দিনের মতোই সাধারণ।

টিকাপাড়া ঈদগাহ এলাকার একটি মুরগির দোকানে সকাল থেকেই ক্রেতার ভিড়। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই কাজ করছে ১৬ বছর বয়সী তাওহিদ। সঙ্গে আছে নাফিস ও সজীব নামের আরও দুই শিশু। কেউ পলিথিন ধরছে, কেউ পারসেল দিচ্ছে। ক্লান্ত চোখে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে তারা।

তাওহিদ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রাজশাহী নগরীর জাতীয় তরুণ সংঘ একাডেমী স্কুলে পড়ে। তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় সংসারের একমাত্র উপার্জনের পথ এখন এই দোকান। সে জানায়, ‘বাবা অসুস্থ, কাজ না করলে চলবে না। সপ্তাহে তিন দিন স্কুলে যাই, বাকি সময় দোকানে থাকি। রাতে প্রাইভেট পড়ি।’

শিশু বয়সে পড়াশোনা, খেলা আর স্বপ্ন দেখার কথা থাকলেও তাওহিদের বাস্তবতা ভিন্ন। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তাকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।

দোকানে সাহায্য করতে এসেছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাইফি। প্রতিবেশীর বিপদের কথা শুনে নিজে থেকেই এগিয়ে এসেছে সে। ছোট ছোট কাজে ব্যস্ত থেকে জানায়, ‘ভাইয়ের বাবা অসুস্থ, তাই হেল্প করছি।’

তাওহিদ জানায়, দোকানটির আয়েই তাদের সংসার চলে। শুক্রবারে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য দিনে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এই আয়ের লাভের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল হওয়ায় মে দিবসেও দোকান বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।

শ্রমিক দিবসে শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাওহিদসহ অন্যরা কিছুই জানাতে পারেনি। তাদের কাছে ‘অধিকার’ শব্দটি এখনো বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ।

শুধু শিশুরাই নয়, একই দিনে কাজ করেছেন অনেক দিনমজুর শ্রমিকও। নির্মাণ শ্রমিক মাহাতাব উদ্দিন উল্লেখ করেন, ‘আজ ছুটি জানি। কিন্তু জরুরি কাজ থাকায় আসতে হয়েছে। আমরা দিন আনি দিন খাই, না এলে আয় হয় না।’

আরেক শ্রমিক আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘শ্রমিক দিবস পালন করলে সেদিনের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তখন খরচ চলবে কীভাবে?’ তিনি মনে করেন, ছুটির দিনে কাজ বন্ধ রাখতে হলে শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ বা মজুরির ব্যবস্থা থাকা উচিত।

মে দিবস শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক ও শিশু জীবিকার তাগিদে সেই দিনেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব তাদের খুব অল্প বয়সেই দায়িত্বের বোঝা কাঁধে তুলে দিচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও শৈশবের স্বপ্ন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে প্রয়োজনের চাপে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

মে দিবসেও চলছে শিশুশ্রম, পেটের দায়ে ফিকে অধিকার

প্রকাশিতঃ ১ মে ২০২৬, শুক্র, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

ঈদে ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ ২১ মার্চ ২০২৬, শনি, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

চাঁদ দেখা যায়নি, বাংলাদেশে ঈদ শনিবার

প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্র, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

জামায়াত আমিরের ঈদ শুভেচ্ছা

প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্র, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশিতঃ ১৪ মার্চ ২০২৬, শনি, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সংস্কার না হলে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে না বিরোধী...

প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬, বুধ, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

আরেকটি নজির তৈরি করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬, বুধ, ৯:২৭ অপরাহ্ণ