রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?
প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০২৬, বৃহঃ, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ১৩ বার।
ক্ষমতার পালাবদল মানে শুধু সরকার বদল নয়; আশপাশের বদলে যাওয়া পরিবেশ, চেনা মানুষের অচেনা রূপসহ আরও কত কিছুই তো বদলে যায়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সমাজে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মধ্যেই রয়েছে তার শিকড়।
ভারতের রাজনীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ‘হিন্দুত্ববাদ’ এখন শুধু মতাদর্শ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে। দেশের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষণা সংস্থার তরফেও বারবার উঠেছে সে অভিযোগ। এ প্রেক্ষাপটেই মুসলিমদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। তবে এই প্রশ্নের শিকড় খুঁজতে গেলে তাকাতে হয় বিগত কয়েক বছরের দিকে। গত কয়েক বছরে ভারতের নানা প্রান্তে যে ভয়ানক চিত্র সামনে এসেছে, তা অস্বীকার করা কঠিন। নাম পরিবর্তনের রাজনীতি এই বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন শহর ও জায়গার নাম বদলানো হয়েছে, যার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মুসলিম ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত নাম। এলাহাবাদ থেকে প্রয়াগরাজ, ফৈজাবাদ থেকে অযোধ্যা— সমর্থকরা যাকে ঐতিহাসিক সংশোধন বলছেন, সমালোচকরা দেখছেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার প্রবণতা হিসেবে। এই প্রেক্ষাপট নিয়েই এখন তাকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ— অটুট থাকবে কি তার বহুত্বের ঐতিহ্য?
শুধু নাম পরিবর্তন নয়, উদ্বেগ বাড়ছে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সামাজিক পরিবেশের পরিবর্তন নিয়েও। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ১ হাজার ৩১৮টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যার প্রায় ৯৮ শতাংশই মুসলিমদের লক্ষ্য করে। গড়ে প্রতিদিন চারটির মতো এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাগুলোর বড় অংশ সেসব রাজ্যে, যেখানে বিজেপি বা তাদের মিত্ররা ক্ষমতায় আছে— এমন দাবিও এসেছে সামনে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরাসরি সহিংসতার অভিযোগ। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ২৭ জন মুসলমান। একাধিক রাজ্যে সংগঠিত আক্রমণ, মারধর, গণপিটুনি এমনকি ‘গো-রক্ষা’ বা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ অভিযোগে মুসলিমদের টার্গেট করার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভাঙা, উচ্ছেদ বা গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
পশ্চিমবঙ্গ বহুদিন ধরেই বহুস্বরের ভূখণ্ড। এখানে মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি পাশাপাশি বেজে উঠেছে। সেই সুর অটুট থাকবে, নাকি ফাটল ধরবে— এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের হাতে।
এ জাতীয় প্রেক্ষাপটের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বারাসাতের এক মসজিদ-সংলগ্ন পাড়ার নাম বদলের অভিযোগ ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে। কারণ নাম শুধু শব্দ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সেই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আরও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে কিছু সহিংসতার খবরেও— যেমন আবীর শেখের মৃত্যু। যখন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তখন তার অভিঘাত একটি পরিবার ছাপিয়ে গোটা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তৈরি করে অনিশ্চয়তার ছায়া।
তবে সংবিধান, আইন, প্রশাসন— সবই এখনো সমান অধিকারের কথা বলে। সরকারও দাবি করে, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না। কিন্তু বাস্তবের বিচার কাগজে নয়, চলে অভিজ্ঞতায়। পুলিশি পদক্ষেপ, বিচার প্রক্রিয়ার গতি, অপরাধীর শাস্তি এসবই ঠিক করে দেয় মানুষের ভরসা টিকে থাকবে কি না। আসলে নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, তা বিশ্বাসের বিষয়ও। যদি কোনো সমাজের একাংশ মনে করতে শুরু করে যে তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তাহলে সেই আশঙ্কাই বাস্তব হয়ে ওঠে। আবার প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে ও সমাজ সহাবস্থানের শক্তি ধরে রাখলে সেই ভয় কমতেও পারে। পশ্চিমবঙ্গ বহুদিন ধরেই বহুস্বরের ভূখণ্ড। এখানে মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি পাশাপাশি বেজে উঠেছে। সেই সুর অটুট থাকবে, নাকি ফাটল ধরবে— এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের হাতে।
এ জাতীয় আরো সংবাদ
রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?
প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০২৬, বৃহঃ, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
মে দিবসেও চলছে শিশুশ্রম, পেটের দায়ে ফিকে অধিকার
প্রকাশিতঃ ১ মে ২০২৬, শুক্র, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
ঈদে ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশিতঃ ২১ মার্চ ২০২৬, শনি, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
চাঁদ দেখা যায়নি, বাংলাদেশে ঈদ শনিবার
প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্র, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত আমিরের ঈদ শুভেচ্ছা
প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্র, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার দাবি নাহিদ ইসলামের
প্রকাশিতঃ ১৪ মার্চ ২০২৬, শনি, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ