দাঁতভাঙা মহাবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে দুর্নীতির দোকান খোলার অভিযোগ
প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারি ২০২৪, শনি, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ২৬৯ বার।
দাঁতভাঙা মহাবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে দুর্নীতির দোকান খোলার অভিযোগ উঠেছে অনেক আগেই। কিন্তু ঠেকানো যায়নি সে দুর্নীতি! সাতক্ষীরা সিটি কলেজ নিয়ে নড়াচড়া শুরু হতে না হতেই একের পর এক বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসতে শুরু করেছে অনিয়ম দুর্নীতির হাজারো অভিযোগ। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নানা ধরণের বৈচিত্র্য। নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে দুর্নীতি অনিয়মের ক্ষেত্রে নবদিগন্ত উন্মোচন করেছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত চক্র। আর এদের সকলের পৃষ্টপোষকতায় নাম আসছে সাতক্ষীরার সদ্য সাবেক একজন সংসদ সদস্যের।
১৯৭৩ সালে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী বৈকারী ইউনিয়নের মৃঙ্গডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা হয় ‘দাঁতভাঙ্গা মহাবিদ্যালয়’। এর বর্তমান অধ্যক্ষ জাহিরুল আলমের বিরুদ্ধে কেউ উচ্চ-বাচ্চ করলেই তার নিজস্ব বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানী করা হয়। ঐ ইউনিয়নের দু’জন নেতাকে দু’পাঁচ হাজার টাকা দিলেই তারা জামাত-শিবির আখ্যা দিয়ে এই হয়রানীর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ জাহিরুল আলম নিজেই সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিবির ক্যাডার। ১৯৯৬ সালে সীমান্তের সাতানী ভাদড়া হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে। সেখানে তিনবার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর ২০০১ সালে তিনি পাস করেন। এরপর শিবিরের রাজনীতির কারণে তিনি দেশের বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। হঠাৎ তিনি এলাকায় ফিরে এসে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রæয়ারি তারিখে ‘দাতভাঙা মহাবিদ্যালয়’ এর ইংরেজি বিষয়ে প্যাটার্নবর্হিভুত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি অনার্স ও মাস্টার্সের সার্টিফিকেট দাখিল করেন ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা’র। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এই প্রতিষ্ঠানের সমস্ত কার্যক্রম ও সার্টিফিকেট অবৈধ ঘোষণা করে। হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টও এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তিনি ঐ অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে এখন দাতভাঙা মহাবিদ্যালয় নাম পাল্টে ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আদর্শ কলেজ’ নামে এমপিওভুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২০ মার্চ ২০১৭ তারিখে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১০ ও ২০১৫ সালের জনবল কাঠামো অনুসারে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে অধ্যক্ষ প্রার্থীকে প্রভাষক হিসেবে ১২ বছরের চাকুরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে অধ্যক্ষ প্রার্থী ইংরেজি বিষয়ে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক মো: জাহিরুল আলমের চাকরির অভিজ্ঞতা ৪ বছর ১ মাস ১২ দিন। জনবল কাঠামো ও চাকরিবিধি অনুসারে উক্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ সম্পূর্ণ বিধিবর্হিভুত। এজন্য অধ্যক্ষ মো: জাহিরুল আলম স¤পূর্ণ জাল জালিয়াতি করে তার নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন।
১৯ এপ্রিল ২০০৫ তারিখ থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধন পাস বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু জাহিরুল আলম ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের সময় ২৬ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে প্রকাশিত ফলাফল অনসারে ৪২০২০০০৫ রোল নম্বরধারী যে নিবন্ধন সনদটি দেখিয়েছিলেন সেটি জাল হিসেবে প্রমানিত। এসব কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।
এদিকে এমপিওভুক্ত হতে না পারলেও কথিত অধ্যক্ষ জাহিরুল আলম সরাসরি সন্ত্রাসী স্টাইলে কলেজটি পরিচালনা করে আসছেন। কেউ কথা বললেই স্থানীয় নেতাদের দিয়ে তাকে হুমকি এবং তাতে কাজ না হলে জামাত-বিএনপি তকমাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে তুলে নিয়ে তাকে সাইজ করা হয়।
একজন শিক্ষক বলেন, গতমাসে কলেজটির ৫২জন শিক্ষক কর্মচারীর নিকট থেকে সংসদ নির্বাচনে মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে দেওয়ার নাম করে প্রতি শিক্ষক ১০ হাজার টাকা এবং কর্মচারী ৫ হাজার টাকা আদায় করেন। কয়েকজন টাকা না দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
স¤প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির এমপিও করার জন্য শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে ইতোপূর্বে ৪ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সম্পর্কে দৈনিক পত্রদূতে একটি খবরও প্রকাশিত হয়।

এদিকে একাধিক শিক্ষক দৈনিক পত্রদূতকে জানান, এমপিওভুক্তির ফাইল ছাড়ানোর জন্য স¤প্রতি অধ্যক্ষ জাহিরুল আলম শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে ভয় দেখিয়ে ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। টিউশিন ফির প্রায় ৮৫ হাজার টাকা তিনি একই ভোগ করেন। প্রতিবছর উপবৃত্তির জন্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে দু’একজনকে প্রদান করে তার প্রায় সবটাই তিনি আত্মসাত করেন। কলেজটির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বেতন, সেশন চার্জ, অন্যান্য ফিসসহ আভ্যন্তরীন আয়ের পাঁচ লক্ষাধিক টাকা তিনি একই ভোগদখল করেন। সা¤প্রতিক সময়ে কলেজটির উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারী দপ্তর থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। অধ্যক্ষ কোন কাজ না করেই সেই টাকা আত্মসাত করেন। কলেজটির প্রায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। এই জমি থেকে আয়ের সবটাই তিনি আত্মসাত করেন। সেখানে থাকা আম বাগানের গাছ বিক্রির একটি টাকাও তিনি কলেজে জমা করেননি। জমি থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির টাকাও তিনি আত্মসাত করেন।
সূত্র জানায়, এখনো কলেজটির ডিগ্রী পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর কোন অনুমোদন পাওয়া যায়নি। কিন্তু ইতোমধ্যেই অন্তত অর্ধশত ব্যক্তির নিকট থেকে ২/৩ লাখ টাকা করে তিনি আদায় করেছেন।
গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর তিনি কলেজটিতে ঘোষণা করেছেন সাতক্ষীরা সদরের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আগামীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে আসছেন। কেউ ঝামেলা করলে তাকে সাইজ করা হবে।
এদিকে দাতভাঙা মহাবিদ্যালয় থেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আদর্শ কলেজ’ নামকরণের অভিযোগ করেছেন অনেকে। তারা বলেন, এই নামে কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছে উল্লেখ করা হলেও তার ১০/১২ বছর পরেও বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো চিঠিপত্রের প্যাডে কলেজটির নাম রয়েছে ‘দাতভাঙা মহাবিদ্যালয়’।
তারা বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ হলেও সাবেক শিবির ক্যাডারে কথিত অধ্যক্ষ জাহিরুল আলম আসার পর কলেজটিতে বহুপূর্ব থেকে ননএমপিও শিক্ষক হিসেবে চাকরি করে আসা ১০জনের অধিক হিন্দু শিক্ষককে তিনি নানা কৌশলে তাড়িয়ে দিয়েছেন। স¤প্রতি যে ২১জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন ঐ হিন্দু শিক্ষকদের তাড়িয়ে তিনি কমপক্ষে ৫জন জামায়াতের রোকন বা অন্যকোন পদে থাকা ব্যক্তিকে এমপিওভুক্ত করিয়ে এনেছেন।
এসব বিষয় নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মো: জহিরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ভাই সব কলেজই একইভাবে চলছে। কাগজপত্র না দেখে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এজন্য তিনি কলেজটিতে চায়ের আমন্ত্রণ জানান।
এ জাতীয় আরো সংবাদ
অসন্তোষ ১১ দলীয় জোটে
প্রকাশিতঃ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধ, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
যারা থাকতে পারবেন স্কুল ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে, যুক্ত...
প্রকাশিতঃ ১১ জানুয়ারি ২০২৬, রবি, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
সরাসরি কভারেজ ২৮ মিনিট আগেরিমান্ড বাতিল করে সেই আলোচিত...
প্রকাশিতঃ ৫ জানুয়ারি ২০২৬, সোম, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়ার মৃত্যু থেকে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, ২০২৫ সালের...
প্রকাশিতঃ ১ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহঃ, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
বিপুল সংখ্যক মানুষের শ্রদ্ধায় খালেদা জিয়াকে বিদায়
প্রকাশিতঃ ১ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহঃ, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩৩ ও গণপিটুনিতে ১৬৮ জন...
প্রকাশিতঃ ১ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহঃ, ১১:১৩ অপরাহ্ণ