শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কর্মবিরতি, রাকসু নির্বাচন ঘিরে ‘ষড়যন্ত্র’র আভাস
প্রকাশিতঃ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোম, ১১:১১ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ৩০৯ বার।
শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। ঘটনাটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে আসন্ন রাকসু নির্বাচনকে ঘিরেই এ কর্মবিরতির পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও হঠাৎ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনা এবং পরবর্তী অচলাবস্থা অনেকের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মনে করছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচালের উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে বিতর্কিত ‘পোষ্য কোটা’ পুরোপুরি বাতিল না করে আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় কর্মকর্তা সমিতি “কমপ্লিট শাটডাউনের” ঘোষণা দেয়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি। অনেকেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার চেয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, পোষ্য কোটা স্থগিতও করা হয়েছে। তবুও কেন শাটডাউনের ডাক? মনে হচ্ছে এটি একটি নির্দিষ্ট মহলের রাকসু বানচালের কৌশল।”
অফিসার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোক্তার হোসেন অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিতে আস্থা রাখতে পারছি না। দোষীদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। তবে রাকসু বানচালের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই ঘটনার বিচার চাই। রাকসু আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।
কর্মবিরতির কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হলেও থেমে নেই রাকসুর নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীরা সকাল থেকে পোস্টার-লিফলেট বিলি ও ভোটারদের কাছে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রার্থীরা মনে করছেন, কর্মবিরতির মূল লক্ষ্যই রাকসুকে বানচাল করা। ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করে ঘরে পাঠাতে চাইছে। এতে রাকসু নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়ছে। একই অভিযোগ তুলেছেন অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরাও।
রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা চাই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন হোক। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়ছেন, যা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। তবুও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন প্রশ্ন একটাই—শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনার বিচার ও পোষ্য কোটা ইস্যুর আড়ালে কি আসলেই রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে? সময়ই এর উত্তর দেবে।
এ জাতীয় আরো সংবাদ
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ৩৩ ঘণ্টা পর নদী থেকে জেলের মরদেহ...
প্রকাশিতঃ ১ আগস্ট ২০২৬, শনি, ২:১৬ অপরাহ্ণ
রাজধানী থেকে সাতক্ষীরার আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার
প্রকাশিতঃ ২৭ জুলাই ২০২৬, সোম, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে দুর্গম পাহাড়ে ডিবির অভিযান, ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ২...
প্রকাশিতঃ ২৫ জুলাই ২০২৬, শনি, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
১১ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
প্রকাশিতঃ ২৫ জুলাই ২০২৬, শনি, ১১:২০ অপরাহ্ণ
ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জামায়াত নেতা গাজী...
প্রকাশিতঃ ২২ জুলাই ২০২৬, বুধ, ৩:১১ অপরাহ্ণ
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা: মৃত্যু বেড়ে ৫৪,...
প্রকাশিতঃ ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গল, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ