আশাশুনিতে আ’লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে জমি দখলসহ মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন
Image

আশাশুনিতে আ’লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে জমি দখলসহ মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিতঃ ২৭ জুলাই ২০২৬, সোম, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ২৫ বার।

আশাশুনিতে আ’লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে জমি দখলসহ মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে ৬.৫৮ একর জমি জবর দখল ও মৎস্য ঘের লুটপাটসহ গ্রামবাসীর নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে গ্রামবাসীর পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জাপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম আজাদ সানা এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আশাশুনি উপজেলার নাকাগদারঘাট মৌজার বিআর এস ৩১, ৫৮ নং খতিয়ানের বিআর এস ১৩৬,১৩৭, ১৪৭ ও ১৪৮ দাগে ৮.৫০ একর জমির মধ্য হতে ৬.৫৮ একর জমি পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধান ও মাছ চাষ করে ভোগ দখল করে আসছিলাম। কিন্তু মির্জাপুর গ্রামের মৃত শাসছুর রহমান সানার ছেলে আ’লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানা শত্রুতার জেরে সন্ত্রসী বাহিনী দিয়ে উক্ত জমির মৎস্য ঘের লুটপাটসহ জবর দখল করার ষড়যন্ত্র করে। বিষয়টি জানতে পেরে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৭৫/২০২৫ নং পিটিশন মামলা দায়ের করি। আদালত তফশীল জমির উপর অপর পক্ষকে বারিত আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের বারিত আদেশ বহাল থাকাবস্থায় শাহাবুদ্দিন সানা তার পোষা বাহিনীর সহযোগিতায় গত ২০২৫ সালের ২৩ মে ফিল্মি কায়দায় উক্ত জমির মধ্য হতে ২ একর জমির মাছের ঘেরে প্রবশে করে ঘেরের বাসা ভাংচুর ও কয়েক লক্ষ টাকার মাছ লুট পূর্বক উক্ত ঘের জবর দখল করে নেয়। প্রতিবাদ করায় দফায় দফায় হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে আমাদেরকে আহত করে। এঘটনায় দ্রুত বিচার আদালতে শাহাবুদ্দিন সানাসহ ৬জনকে আসামী করে মামলা করি। ডিবি পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আবুল কালাম আজাদ সানা আরো বলেন, শাহাবুদ্দিন সানাসহ উক্ত মামলায় কারাগারে গিয়ে ১৮ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আরো মারমুখী হয়ে ওঠে। আমাদের সায়েস্তা করতে সে গভীর ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২এপ্রিল ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করলে বিচারক তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব প্রদান করেন। পরে আমরা জমি ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক শালিশি বৈঠকে জবর দখলীয় সম্পত্তি আমাদের এবং প্রতিপক্ষের জমির মধ্যে আমাদের আরো ২.৫০ বিঘা জমি পাওনা হয়। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের সর্ব সম্মতিতে আমাদের পাওনা জমির কিছু অংশ বুঝে দিয়েছে। বক্রি পাওনা জমির দখল আজ দেই কাল দেই করে বুঝে দিচ্ছে না। উল্টো আবার জমি দাবী করে মিথ্যা ঘটনার তারিখ দেখিয়ে শাহাবুদ্দিন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। আমরা জমি হারালাম, ঘের হারালাম, মার খেলাম, মামলার আসামী হলাম এসব বিষয়ে জানার পরও পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন সানার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মনগড়া রিপোর্ট আদালতে প্রদান করেছে। ফলে আমরা ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হয়েছি।তিনি আওয়ামীলীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানা কর্তৃক জমি জবরদখল, মারপিট, মিথ্যামালা দিয়ে গ্রামবাসীর হয়রানী প্রতিকার দাবি করে সুষ্ঠ তদন্তপর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস নোট